ওজুর মাধ্যমে পাপমুক্তির উপায় কী?
ওজুর মাধ্যমে পাপমুক্তির উপায় কী?
ওজুর মাধ্যমে পাপমুক্তি: সঠিকভাবে অজু করা খুবই একটা ফজিলাতপূর্ণ, সঠিকভাবে অজু করা খুবই একটা ফজিলাতপূর্ণ কর্ম। ওজুর যে এত মাহাত্ম ও ফজিলাত রয়েছে, আমরা তা ওজুর করার সময় যদি মনে রাখি তাহলে আমাদের ওজু আরো সুন্দর ও বোধগম্য হবে, ইন শা আল্লাহ। আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ
যে ব্যাক্তি উযূ করে কুলি করলো
এবং নাকে পানি পৌঁছালো, তার
গুনাহ্সমূহ তার মুখ ও নাক থেকে বের হয়ে যায়। সে তার মুখমন্ডল ধৌত করলে তার
গুনাহসমূহ তার মুখমন্ডল থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু চোখের ভ্রুর নিম্নাংশ থেকেও গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার উভয়
হাত ধৌত করলে তার দু হাত থেকে গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার মাথা মাসহ করলে তার
মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়,
এমনকি তার দু কান থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। সে তার উভয় পা ধৌত করলে তার
পদদ্বয় থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়,
এমনকি তার পদদ্বয়ের নখের নিম্নভাগ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর তার স্বলাত
ও তার মসজিদে যাতায়াতের সাওয়াব (উল্লিখিত বিষয়ের) অতিরিক্ত।[1]
১.৩: উযু এবং তারপর স্বলাত আদায়ের ফযীলত ও গুনাহ মাপ:
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি
রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া ছাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যাক্তি
সালাতের জন্য উযূ করে এবং পরিপূর্নভাবে উযূ করে, অতঃপর ফরয সালাতের উদ্দেশ্যে হেঁটে গিয়ে
লোকজনের সঙ্গে স্বলাত (নামায/স্বলাত) আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, জামাআতের সঙ্গে স্বলাত আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, মসজিদে স্বলাত আদায় করে, আল্লাহ সেই ব্যাক্তির গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে
দিবেন।[2]
‘উসমান ইবনে ‘আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করবে, তার পাপসমূহ তার দেহ থেকে বেরিয়ে
যাবে। এমনকি তার নখগুলোর নিচে থেকেও (পাপ) বেরিয়ে যাবে।”[3]
১.৪: ওজু শেষে দোয়া পড়ার ফযীলত: উমার ইবনে
খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেন:
পরিপূর্ণরূপে ওযু করে যে ব্যক্তি
এই দো‘আ বলবে, ‘আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা
শারীকা লাহ, অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু
অরাসূলুহ।’ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত (রাসূল)।
তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ
করবে।[4]
১.৫: কষ্টের মুহূর্তে পূর্ণরূপে উযু গোনাহের কাফফারা স্বরুপ:
প্রচণ্ড
শীতের রাতে ওযু করা কষ্টকর। এরকম কষ্ট করে
উযু করলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দাহর গুনাহ মিটিয়ে দেন। বান্দার
গোনাহ মিটে যাওয়ার চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে? একটি দীর্ঘ হাদীসে একে ‘কাফফারাতুন’-পাপ
মোচনকারী বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-পাপ মোচনাকরী হল- নামাযের পর (আরেক নামাযের
অপেক্ষায়) মসজিদে অবস্থান করা। পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন এবং কষ্টের মুহূর্তে
পূর্ণরূপে উযু করা।[5]


Comments
Post a Comment