পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাতের রহস্য
পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাতের রহস্য
ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সহকারী অধ্যাপক,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাতের হাকীকাত: ইমাম যনদস্তী (রঃ) তার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘রাওজার’-এর মধ্যে সমরকন্দি (রঃ) থেকে নকল করেন, তিনি বলেন: আমি আবুল ফজল
থেকে জিজ্ঞাসা করেছি পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত সর্বপ্রথম কে, কখন আদায় করেছেন? উনি উত্তরে বলেন:
ফজর: ফজরের স্বলাত
সর্বপ্রথম হযরত আদম আলাইহি ওয়া ছাল্লাম আদায় করেন। আল্লাহ তায়’লা তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় রাতের অন্ধকারে
অবতরণ করান। জান্নাত
নুরের তৈরী সেখানে নুর আর নুর অন্ধকার বলতে কিছুই নেই। দুনিয়ার অন্ধকার দেখে উনি
ভয় পেয়ে গেলেন। আর যখন সকাল হল চারপাশে আলো ছড়িয়ে যায়, উনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। দুই অন্ধকার (একটা দুনিয়ার একটা
রাতের) চলে যাওয়ার কারণে দুই রাকায়াত স্বলাত পড়লেন। ফলে যারা এই
দুই রাকায়াত ফজরের স্বলাত পড়বে আল্লাহ তাদের গুনাহের অন্ধকার দূরভীত করে আনুগত্যের
নুর দান করবে।
যোহর: যোহরের স্বলাত সর্বপ্রথম আদায় করেন আল্লাহর খলিল
হযরত ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া ছাল্লাম যখন আল্লাহ তায়ালা উনাকে চারটি নেয়ামত দান করলেন। তাহলো ১) নিজ সন্তানের কুরবানী থেকে মুক্তি ২)
জান্নাত থেকে ফিদিয়া বা দুম্বা নাজিল করা ৩) আল্লাহ তায়ালা তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে
যাওয়া ৪) উনার ছেলে তলোয়ারের নিচে মাথাকে সোপর্দ করার মাধ্যমে উনার আনুগত্য
স্বীকার করা। যারা এই চার রাকায়াত
যোহরের স্বলাত পড়বে আল্লাহ তাদেরকেও চারটি নেয়ামত দান করবেন। তা হল ১) নফস শয়তানকে
হত্যা করার তৌফিক দান করবেন ২) পেরেশানী থেকে রেহাই দান করবেন ৩) ইহুদী ও
নাসারাদেরকে জাহান্নামে দিয়ে তাদেরকে মুক্তি দান করবেন ৪) তাদের প্রতি তাদের
প্রতিপালক রাজী হয়ে যাবেন।
আছর: সর্বপ্রথম আছরের স্বলাত আদায় করেন হযরত ইউনুচ (আঃ)
যখন আল্লাহ তায়ালা চারটি অন্ধকার থেকে মুক্তি দান করেন। ১) তার পক্ষ থেকে
রাগান্নিত হওয়া জাতির অন্ধকার ২) রাতের অন্ধকার ৩) সমুদ্রের অন্ধকার ৪) মাছের
পেটের অন্ধকার । যারা এই চার রাকায়াত স্বলাত
আদায় করবে তাদেরকে রাব্বুল আলামীন চারটি অন্ধকার থেকে মুক্তি দান করবেন। ১) কবরের
অন্ধকার ২) গুনাহের অন্ধকার ৩) কিয়ামতের অন্ধকার ৪) জাহান্নামের অন্ধকার।
মাগরীব: মাগরীবের স্বলাত সর্বপ্রথম আদায় করেন হযরত ঈসা (আঃ)
যখন তাকে ও তার আম্মাকে খোদা বলা থেকে মানুষ বিরত থাকে এবং এক আল্লাহর একত্ববাদকে
স্বীকার করে। উম্মতে মুহাম্মদী ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া ছাল্লাম যারা এই তিন রাকায়াত স্বলাত
আদায় করবে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তিনটি নিয়ামত দান করবেন। ১) কিয়ামতের ময়দানে হিসাব সহজ হয়ে যাবে,যে দিন দুনিয়ার দিনের পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে।
২) জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবে ৩) কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে।
ইশা: ইশার স্বলাত সর্বপ্রথম আদায় করেন আল্লাহ তায়ালার কলিম হযরত মুছা আলাইহি ওয়া ছাল্লাম। যখন আল্লাহ তাকে চারটি পেরেশানী থেকে মুক্তি দান করেন । ১)মাদায়ন শহর থেকে আসার পথে রাস্তা হারিয়ে ফেলার পেরেশানী ২) তার ছাগল হারিয়ে যাওয়ার পেরেশানী ৩) ভ্রমণের পেরেশানী ৪) তার স্ত্রী হারিয়ে যাওয়ার পেরেশানী। রাতের অন্ধকারে যখন পাহাড়ে গেলেন উপরোক্ত পেরেশানী দূর হয়ে যায় এবং উনি আল্লাহর দীদার পান। উম্মতে মুহাম্মদী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম যারা এই চার রাকায়াত স্বলাত আদায় করবে তায়ালা তাদেরকে চারটি নিয়ামত দান করবেন । ১) সিরাতে মুস্তাকিমে অঠল রাখবেন।২) যে কোন সমস্যার সমাধান করে দেবেন ৩) মাহবুবে হাকীকী তথা বাস্তব বন্ধুর সাথে সাক্ষাত দেবেন ৪) শত্রু থেকে মুক্তি দান করবেন ।


Comments
Post a Comment